মোবাইল ডাটার অভিযোগে ক্লান্ত টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
মোবাইল ইন্টারনেটের ডাটা নিয়ে গ্রাহকের প্রচুর অভিযোগ পাচ্ছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভোযোগ ডাটার মেয়াদ নিয়ে। অভিযোগ আছে অন্যান্য সেবা নিয়েও।তিনি বলেছেন, “গ্রাহক প্রথমে যে কথাটা বলে- আমি ডাটা কিনেছি, আমার কেনা ডাটার জন্য লিমিট থাকবে কেন? কেন আমার ডাটা তিন দিনে ফুরিয়ে যাবে, ২৪ ঘণ্টায় ফুরিয়ে যাবে, সাত দিনে ফুরিয়ে যাবে, আমি তো ডাটাটা পয়সা দিয়ে কিনেছি।”
ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড পলিসি নিয়ে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটাই বলছিলেন মন্ত্রী।
বিটিআরসি‘র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: খলিলুর রহমান ছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এলায়েন্স ফর এফোর্ডেবল ইন্টারনেট-এর এশীয় প্রশান্তমহাসাগীয় প্রধান আনজু মঙ্গল, এটুআই পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ ওমেন ইন আইটি প্রেসিডেন্ট ড. লাফিফা জামাল এবং অ্যামটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অবঃ)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইন্টারনেটে ডাটার মূল্য ৭৮ হাজার থেকে ৬০ টাকায় কমিয়ে আনার পরও মোবাইল গ্রাহকরা কার্যত এই সুবিধা না পাওয়া নিয়ে খেদ প্রকাশ করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ ২০০৬ সালে এক এমবিপিএস ব্যান্ড উইথের মূল্য পেতাম ৭৮ হাজার টাকা, ২০০৮ সালে ২৭ হাজার টাকা আর এখন ৬০ টাকা। হিসাব করে দেখেন কী পার্সেন্টেজে পড়ে। তবে হ্যাঁ, আমাদের একটা দুর্বল জায়গা আছে। এ দুর্বল জায়গাটা যেহেতু বাংলাদেশের শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইল ফোন দিয়ে। কিন্তু আমাদের মোবাইল অপারেটররা আবার নতুন বিজনেস কায়দায় মনে করেন যে যদি টাইম ফিক্সড করে দেই, আমি ১০ জিবিপিএস ডেটা দিয়ে দিলাম তারে সময় দিয়ে দিলাম দুই দিন। আমি মাঝে মধ্যে অবাক হই তারা কী মনে যে এই ১০ জিবি দিয়ে এদেরকে পর্ণ ছবি দেখানো হবে! যদি তা না হয় তাহলে আমি তারে এক বা দুই দিনে যদি ১০ জিপি প্যাকেজ দেই তাহলে তার পক্ষে কি এটা সঠিকভাবে ইউটিলাইজ করা সম্ভব?”
বক্তব্যে ২০৪১ সালকে সামনে রেখে ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্ভাব্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের চাহিদা উপযোগী ব্রডব্যান্ড নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
দিনব্যাপী অংশীজনদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই নীতি সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিটিআরসি‘র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে প্রায় এক যুগ পরে হালনাগাদ করা জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ২০২৩-এর খসড়া নীতিমালার ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ রফিকুল মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মইনুল জাবের, গ্রামীণফোনের জেনারেল ম্যানেজার মইনুল মোমিন, সামিট কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলাম, লিংক থ্রি ক্যারিয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুনায়েদ এবং আইসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক।